‘ওয়াল্ডেন’ – পরমেশ গোস্বামী

মুখবন্ধ:

হেনরি ডেভিড থরো আমেরিকার এক দার্শনিক কবি। ইনি জন্মেছিলেন ১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে আর মারা যান ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে। বিশ্বের ইতিহাসে এঁর অনন্য অবদান। ইনিই অহিংস আইন অমান্য ধারণার প্রবর্তক। এঁর চিন্তাভাবনা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে ভবিষ্যত প্রজন্মকে। এঁর চিন্তার সূত্র ধরেই ভারতবর্ষে মহাত্মা গান্ধী এবং আমেরিকাতে মার্টিন লুথার কিং তাঁদের কার্যধারা অনেকাংশেই পরিচালিত করেছিলেন। সরল জীবনযাপনের তত্ত্বকে তিনি তাঁর নিজের জীবনযাপন দিয়ে প্রকাশ করেছিলেন।

      নিজের জীবনকে আবিষ্কার করবার জন্য মাত্র আঠাশ বছর বয়সে তিনি তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক চাকরি ছেড়ে ম্যাসাচুসেটসের কনকর্ড এলাকায় ওয়াল্ডেন পন্ডের ধারে পৌঁছেছিলেন। সেখানে নিজের বসবাসের জন্য এক কক্ষ বিশিষ্ট একটি বাড়ি নিজের হাতে নির্মাণ করেছিলেন।  সে বাড়ির দেওয়াল তাঁর নিজের হাতে গাঁথা। সে বাড়ির দরজা জানালা তাঁর নিজের হাতে বানানো। জীবন ধারণ করতেন ছুতোরের কাজ করে। সর্বকালের এক সেরা দার্শনিক হার্ভাডের কৃতি ছাত্র তিনি জীবনের এই পর্বে আশপাশের গ্রামে কাঠের কাজের সরঞ্জাম কাঁধে বয়ে নিয়ে গিয়ে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে ছুতোরের কাজ করতেন। তিনি এই পরীক্ষামূলক জীবনযাপন করেন ১৮৪৫ থেকে ১৮৪৭ খ্রিস্টাব্দ অবধি। 

      জীবন নিয়ে তাঁর পরীক্ষার দলিল তিনি রেখে গেছেন তাঁর ডায়েরির পাতায়। সেই ডায়েরিই ওয়াল্ডেন নাম নিয়ে বই হিসেবে প্রকাশিত হয় ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে। সেই বই প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে তার আবেদন নিয়ে বিশ্বের ভাবুক সমাজ আলোড়িত হয়ে ওঠে। দেঁতো ভদ্রতাকে তিনি এতটাই অপছন্দ করতেন যে অবাধ্যতাকে তিনি বিশেষ গুণ হিসেবে মেনেছিলেন। বাধ্যতাকে তিনি একধরনের দাসত্ব বলে মনে করতেন। (Disobedience is the true foundation of liberty. The obedient must be slaves.) এই বোধ থেকেই তাঁর মাথায় সিভিল ডিসবিডিয়েন্সের তত্ত্ব জন্মেছিল। যা ভাবীকালের বিশ্ব রাজনীতিতে গভীর প্রভাব বিস্তার করে।


Henri David Thoreau. His writing is ‘Walden Pond’. The memory of reading that book remains intact. Carrying a mat from home once I reached by the side of a pond to read it in solitude. I was in school then. When I just finished reading the book the last rays of the day disappeared. The day ended. The book had just been perfectly fitted with the size of the day! Today, after forty years, reaching the very Walden Pond I again saw that day that was as shiny as a tuberose in the sun, as smooth as a big apple on a winter day!

হেনরি ডেভিড থরো। এঁর লেখা বই ‘ওয়াল্ডেন পণ্ড’। এই বইটা পড়ার স্মৃতি অমৃতময় হয়ে আছে। একদিন বাড়ি থেকে একটা সতরঞ্চি নিয়ে এক পুকুর পাড়ে হাজির হয়েছিলাম নিরিবিলিতে বইটা পড়ব বলে। তখন স্কুলে পড়ি। পড়তে পড়তে সন্ধ্যা হয়ে এল। শেষ লাইনটা যখন পড়লুম ঠিক সেই মুহূর্তে দিনের আলোর শেষ নিশানাটুকু মিলিয়ে গেল। দিন ফুরল। সব কিছু যেন মাপে-মাপে এঁটে গেল! আজ চল্লিশ বছর পরে সত্যিকারের ওয়াল্ডেন পণ্ডের ধারে এসে সেই দিনটাকে সূর্যের আলোয় ঝলমলে একটা রজনীগন্ধার স্তবকের মতো, শীতদিনের একটা মসৃণ আপেলের মতো আবার দেখতে পেলুম।

ছবিঃ আশিস চট্টোপাধ্যায় ।

Please email your comments/suggestions to soumyanetra.convergence@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *