আঁধার রাতের অরুন্ধতী – রিয়া মন্ডল

প্রতি রাতে অতিথি হয়ে আসে সে
সর্পিল এক বিশালাকার আকাশগঙ্গায় যাকে খুঁজে মরি
সেই যে অশরীরী
এক ঝাঁক নক্ষত্রের মাঝে সে অনুভববেদ্য নয়,
পৃথিবীর বুকে দাঁড়িয়ে তোমার সংশয় যার প্রতি
তোমার রাতের আকাশে সে অনাহূত অতিথি, অরুন্ধতী।
অসীম সেই চাহিদার মাঝে তোমার সংশয়ের
পরিণতি সেই সত্যে
যা মেঘের আড়ালে লুকিয়ে,
অরুন্ধতী, তুমি তো জেগে আছ!
বিপুল ধূলিকণার শরীরাকাশে তুমি সূক্ষ্ম অথচ গভীর
পৃথিবীর চক্ষু উন্মীলিত হয়েও তোমায় দেখতে পায়নি।
শত যুদ্ধ, শত অবিচার, শত শত আন্দোলনে ওরা খোঁজেনি তোমায়
তোমার সহযাত্রী তারকা জানে তুমি শাশ্বত,
যুগ যুগ ধরে যে আলো জ্বালিয়ে যায় মনীষীগণ
শত প্রচেষ্টায় তার শিখা আজ উর্দ্ধগামী
তবু তুমি জান, অরুন্ধতী
এক পক্ষের সত্যকে গ্রহণ করে যে মানুষ আজ মহান
তারা তারকাখচিত রাত দেখেনি
আগুন জ্বালানোর পূর্বে দু’চোখে তোমায় খোঁজেনি
তুমি আজও ঋষির চোখে দৃশ্যমান
মনুষ্যজন্মের মতই তোমার অস্তিত্ব স্বতঃসিদ্ধ
অরুন্ধতী, তুমি নিঃসীম আঁধারে আলো জ্বেলে রেখো
চেয়ে আছে যে শত শত নির্ঘুম চোখ তোমা পানে!


রিয়া মন্ডল
গবেষিকা, দর্শন বিভাগ, গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

Resurrection -Shabana Nasreen

The crows feast on mutilated bodies-
Bodies- as soft as petals,
munching and chewing-
their flesh that taste of bullets and burning grief.
Bodies-
Thirteen inches, twenty-six inches, and thirty and nine
Lie motionless and maimed.
Far across the border,
The radio cries, “Save Children! Save Children!”
The skeletons remain,
waiting for the rain,
to get dissolved into the soil
and bloom as flowers again.


Shabana Nasreen is a Research Scholar in the Department of English, Diamond Harbour Women’s University. She is also a Guest Faculty in the Department of English, Jadavpur University. She has presented papers at several national and international seminars and has published research articles in Web of Science Indexed, UGC Care Listed and Peer-Reviewed Journals. She has been a dedicated teacher of English at Convergence since July 2023, and teaches the language at various levels.

প‌ঞ্চসায়র – মমতা সরকার

নার্সিসাসের আরশি হতে
দাঁড়িয়ে ছিল জল
বাড়ন্ত কলকাতার বুকে
এখন‌ও টলটল।

নগর জীবন ব্যস্ত শহর
ছুটন্ত তার মন
জল বলে তুই ছুটিস নে আর
কান পেতে ঐ শোন্—

মৃদুমন্দ হাওয়ার সাথে
পড়ন্ত বিকেলে
থির হয়ে তুই দাঁড়াস যদি
চক্ষু দুটি মেলে

পরিয়ে দেব মায়া কাজল
মাতিয়ে দেব মন
জলের টানে সকাল হবে
বিকেল উচাটন।

ইচ্ছে হবে আদুল গায়ে
জলের পাশে বসি
কালো জলের আলো মেখে
জল-যমুনায় মিশি।

মন যদি চায় কলস ভরে
জল নিয়ে যাস ঘরে
জলের বুকে মুখটি দেখে
জল রেখো অন্তরে।।


মমতা সরকার —প্রাক্তন অধ্যাপিকা, সম্মিলনী মহাবিদ্যালয়, জুড়ে থাকতে ভালবাসেন সঙ্গীত ও সাহিত্যের বহুবিধ চর্চায়, প্রিয় কাজ— ব‌ই পড়া, কবিতা পাঠ,অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, লেখালিখি।

 বীণাপাণি – অর্পিতা সিংহ চৌধুরী

শুক্লাম্বরা বীণাপাণি 
বিদ্যা করেন দান।
বিদ্বানদের বুদ্ধি দিয়ে 
রক্ষা করেন মান।
মুক্তাহার দোলে তাঁর
বক্ষস্থলমাঝে,
তাঁর হাসিতেই মুক্ত ঝরে
সংসার ও সমাজে।
কর্মে তাঁর আলোর আভা,
জ্ঞানেই তাঁর শোভা।
অবিদ্যাকে দূরে সরান, 
যে করে তাঁর সেবা।
তিনিই পরম জ্যোতির্ময়ী,
দেন সবারে মুক্তি।
চির অবিচল তাঁর পদতলে 
ভক্তগণের ভক্তি।


অর্পিতা সিংহ চৌধুরী
কনভারজেন্স,সংস্কৃত ভাষা শিক্ষিকা, আগষ্ট 2024 থেকে

বসন্তে – নিমাইচন্দ্র দাস

উদার আকাশ মধুর বাতাস
সোনালী রোদের মিষ্টি আভাস। 
কুহু কুহু ডাক আমের ঐ শাখে
কৃষ্ণচূড়া লাল পথের ই বাঁকে।
 পলাশ রাঙা যে সেই রঙ মেখে 
মনকে রাঙাতে যায় যেন ডেকে।
প্রাণে লাগে দোলা দোদুল ছন্দে 
ময়ূরী নাচছে বনেতে আনন্দে
যত চুপ কথা গোপনে বিজনে
প্রকাশে উন্মুখ আজ এই ক্ষণে।
ফুল বলে ডেকে জীবনে জীবন 
যোগ করে চলো হয়ো না উন্মন।
নদীর জলেতে ওঠে যে লহরী
বলে-সেই  ধন্য যে পায় মাধুরী।

_____________________________________________________________________________________

পরিচিতি

নিমাই চন্দ্র দাস 

শিক্ষাগত যোগ্যতা – সংস্কৃত ও বাংলায় এম.এ। বি.এড। মহামহোপাধ্যায় গোপীনাথ কবিরাজ পুরস্কার প্রাপ্ত। প্রাচীন কলা কেন্দ্র চন্ডীগড় থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত বিশারদ।

হাওড়া টাউন স্কুলের সংস্কৃত ও বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

কবিতা লেখার শুরু বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকে। প্রথম মুদ্রিত ও প্রকাশিত কবিতা ‘সন্ধ্যা’। নানা পত্রিকায় লেখালেখি। লিটল্ ম্যাগাজিনের সঙ্গে যোগ।

সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত অভয়ারণ্যের বিভীষিকা। সম্পাদক ছিলেন সত্যজিৎ রায়।

প্রথম প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘কবিতা কুসুম’।

গল্প সংকলন –

১. প্রথম ফোটা ফুল (১৩৮১)
২. গল্পমালা ( গল্প সংকলন, ১৪১১)
৩. হিল্লোল (কাব্যগ্রন্থ, ১৪১০)
৪. আবরণ ( উপন্যাস, ১৩৮২)
৫. ছড়া ছবিতে জীবজন্তু (১৪১২)
৬. দেবী তীর্থ বৈষ্ণোদেবী ( ভ্রমণ কাহিনী, ২০১৫)
৭.  সেকালের দুর্গম তীর্থে একালের যাত্রী (ভ্রমণ কাহিনী, ২০২৫)

নীল সিঁড়ির অধ্যাদেশ – সৌমি সাহা

চুল তার মেঠো বাদামের খোসার রঙের।

​তার পিছু নিতে গিয়ে বহুবার পথ হারিয়েছি—সেই ঘন পাইন বনে! সেখানে যেতে হলে পাহাড়িয়া সোঁদা গন্ধের চড়াই বেয়ে, খালি পায়ে হাঁটতে হয়।

​সেই মেয়েটা বিনুনি দুলিয়ে চা বাগানের ভেতর দিয়ে চলে যায়।

​অচেনা কিছু ছড়ানো ফুল রাস্তার উপর মাড়িয়ে যায় দরজায় দাঁড়ানো অকাল প্রেম। কখনো হাসে, কখনো কানে গুঁজে নেয়, আবার কখনো দূরে ফেলে দেয় খেয়ালি ধাঁচে। ধর্ম থেকে তুলে ধরা অধর্মের শরীরে চর্বির পাহাড় আর অদ্ভুত অহংকার!

​বুকের মাটির ভিতর চিরকালই শিকড়-বাকড়ের ঘর; সিঁড়িগুলো মিশে গেছে আকাশের নীলে।

​আমার সিঁড়ি লাগে না।

​এমনটাই হয়—মধ্যবিত্ত বেকার রাত্রের আকাশের চাঁদ আকাশেই থাকে, কেবল নিজের অস্তিত্বের আয়নায় জোকার হেসে যায়।

Name- Soumi Saha,

Address- Annadapally, Bolpur, Birbhum

Library and Information Science Professional 

You dress immodest! – Tanushree Mandal

Teaching a girl
what “shame” is
Must be the first step
for her to be
as docile and effacing;
and quite efficient
in clipping her wings,
just the right amount
for her to think
that It is her duty –
to uphold the dictum
of what society
terms as “modesty”
under the guise
of a sinister way
of controlling her Being.
She knows not to question
as her very body is
the source of shame!
So paramount and
so insidious a belief,
Always left scrambling
for ways to prove
her innocence
and her “purity”
in this conceited
make-believe-system
of centuries old patriarchy.


Ms. Tanushree Mandal is a passionate educator and mentor. She holds an M.A. in English from Diamond Harbour Women’s University, and a B.Ed. from Baba Saheb Ambedkar Education University.